আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কোন কার্যকারিতা নেই: এডওয়ার্ড স্নোডেন

সন্ত্রাসবাদের ওপর নজর রাখতেই হবে এ নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। কিন্তু ২০১৩ সালে ফাঁস হওয়া কাগজপত্র থেকে দেখা গেছে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই এমন সব মানুষের ওপর আমেরিকার সরকার নজর রাখছে বলে স্নোডেন জানিয়েছে।
‘I-work-much-harder’-in-Russia-than-at-NSA-Edward-Snowden

আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৎপরতার কোনো কার্যকারিতা নেই এবং তারা কোনো সন্ত্রাসী হামলাই ঠেকাতে পারে নি। স্পানিশ টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন রাশিয়ার আশ্রয়গ্রহন করে থাকা আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা বা এনএসএ’র সাবেক কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেন।

স্নোডেন বলেছে, সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানোর অজুহাতে আমেরিকায় আড়িপাতা এবং নজরদারির সমগ্র কর্মসূচি চালানো হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ, অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তি এবং সামাজিক নিয়ন্ত্রণের কাজে এ সব কর্মসূচি ব্যবহার হচ্ছে।

সন্ত্রাসবাদের ওপর নজর রাখতেই হবে এ নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। কিন্তু ২০১৩ সালে ফাঁস হওয়া কাগজপত্র থেকে দেখা গেছে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই এমন সব মানুষের ওপর আমেরিকার সরকার নজর রাখছে বলে স্নোডেন জানিয়েছে।

স্নোডেন আরো জানায় আইনজীবী, অধ্যাপকদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করেছে এনএসএ এবং এ সব ব্যক্তি সন্ত্রাসবাদের দায়ে সন্দেভাজন নয়। এ ছাড়া, ইউনিসেফের বিরুদ্ধেও আমেরিকা গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়েছে বলে সে জানায়।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে আমেরিকার সরকারের ব্যাপক আড়িপাতার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করে বিশ্বব্যাপী হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল স্নোডেন। ২০১৩ সালের জুন মাসে গোপনে হংকং যায় স্নোডেন। হংকং’এ যাওয়ার আগ পর্যন্ত ফাঁস করে দেয়ার বিষয়টি টের পায়নি আমেরিকা। পরে সেখান থেকে স্নোডেন মস্কো চলে যায়।

তবে আমেরিকার কর্তৃপক্ষ তার পাসপোর্ট বাতিল করে দেয়ায় স্নোডেন ২০১৩ সালের ২৩ জুন থেকে মস্কোর শেরেমেটিয়েভো বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন এলাকায় আটকা পড়ে। পরে আগস্ট মাসে তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয় রাশিয়া। পরে তাকে তিন বছরের জন্য রাশিয়ায় বসবাসের অনুমতি দেয়া হয়। ২০১৪ সালের ১ আগস্ট থেকে সে অনুমতি কার্যকর হয়েছে।









Leave a Reply