আমেরিকা-সৌদি-তুরস্ক জোট সিরিয়ার শান্তির পথে প্রতিবন্ধক

তবে বিশ্লেষকরা আগেই আশঙ্কা করছিল যে মতপার্থক্যের কারণে জেনেভা শান্তি আলোচনা অচলাবস্থার শিকার হবে। তারা মনেকরে সিরিয়ার সরকারের সঙ্গে দেশটির বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর আলোচনা কেবল তখনই সফল হবে যখন সেখানে বিদেশী শক্তি এবং সন্ত্রাসের আধিপত্য থাকবেনা।
syria-rubble
সিরিয়ার শান্তি আলোচনা কঠিন কিছু বাধার মুখোমুখি হয়েছে বলে জাতিসংঘ মহাসচিবের সিরিয়া বিষয়ক দূত স্টিফান ডি মিসতুরা আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিরিয়া বিষয়ক জেনেভা শান্তি আলোচনা স্থগিত ঘোষণা করেছে।

এর আগে সিরিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে অভিযোগ করেছে যে, সিরিয়া সংক্রান্ত জেনেভার তৃতীয় দফা শান্তি আলোচনা স্থগিত হয়ে গেছে তুরস্ক ও সৌদি সরকারের নানা টালবাহানার কারণে। তারমধ্যে আবার সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উপদেষ্টা আহমাদ আসিরি বলেছে, রিয়াদ সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেইটের ওপর স্থল-হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উপদেষ্টা সরাসরি বলেছে যে, সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেইট বিরোধী আমেরিকার জোটের যেকোনো সেনা অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে দেশটি।

অবশ্য, জেনেভার সিরিয়ার শান্তি আলোচনা স্থগিত হওয়া প্রসংগে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আজ-জুবাইর দাবি করেছে যে সিরিয়ার আসাদ সরকার জেনেভা শান্তি-আলোচনায় অংশ নেয়ার বিষয়টিকে কোনো গুরুত্বই দেয়নি।

ওই স্থগিত হওয়া শান্তি আলোচনায় সিরিয়ার বৈধ সরকারের প্রতিনিধিদলের প্রধান বাশার আজ-জাফারি বলেছে, ‘সিরিয়া বিশ্বের কাছে এটা প্রমাণ করেছে যে, দেশটি দায়িত্বশীল ও অঙ্গীকারবদ্ধ।’ অন্যদিকে সন্ত্রাসীদের মদদদাতারা অর্থাত সৌদি, তুর্কি ও কাতার সরকার প্রথম থেকেই জেনেভার শান্তি আলোচনাকে অচল করে দিতে বিদ্রোহী নেতাদের নির্দেশ দিয়েছে।’

তবে বিশ্লেষকরা আগেই আশঙ্কা করছিল যে মতপার্থক্যের কারণে জেনেভা শান্তি আলোচনা অচলাবস্থার শিকার হবে। তারা মনেকরে সিরিয়ার সরকারের সঙ্গে দেশটির বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর আলোচনা কেবল তখনই সফল হবে যখন সেখানে বিদেশী শক্তি এবং সন্ত্রাসের আধিপত্য থাকবেনা।

তবে সিরিয়ার শান্তি আলোচনায় তাদের পছন্দের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ঢুকিয়ে দিতে চেয়েছে সৌদি ও তুরস্ক। আর এ বিষয়টি সিরিয়া সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের পথে অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সন্ত্রাসীদেরকে আলোচনার পক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর জন্য সৌদি ও তুরস্কের একগুঁয়েমি এবং বাশার আসাদ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য তাদের অন্যায্য দাবি থেকে সরে আসাটা জরুরি। আমেরিকার সরকারও তুরস্ক ও সৌদি আরবের অন্যায্য দাবিকে সমর্থন দিচ্ছে। সুতরাং, তুরস্ক-সৌদি-আমেরিকা পক্ষ আসলে মুখে আলোচনার কথা বললেও বাস্তবে আলোচনা ও শান্তির বিরোধী এটাই প্রমাণিত হচ্ছে।

সম্প্রতি আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমদে দাউদওগলুর সঙ্গে এক বৈঠকে বলেছে, সিরিয়ার শান্তি আলোচনা সফল না হলে আমেরিকা ও তুরস্ক সামরিক পথ বেছে নিতে প্রস্তুত রয়েছে। আমেরিকার নেতৃত্বে এই জোটের অপরিনামদর্শী হস্তক্ষেপ ও আধিপত্যকামী নীতির কারণেই শান্তি আলোচনার সময় সন্ত্রাসীরা নানা ধরনের অবস্থান নিয়েছে এবং টালবাহানার মাধ্যমে সিরিয়ার মানবিক সংকট ও যুদ্ধ অবসানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৪৫ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী কেবল সিরিয়ার জনগণই নিরাপদ এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশে মুক্ত ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে। তাদের ও আসাদ সরকারের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।









Leave a Reply