ইউরো- ট্রইকার উপর অনাস্থা গ্রিসবাসীর, “না” ভোট জয়যুক্ত

oxi-greece-no
শতকরা ৬১.৩ “না” ভোট দিয়ে ইউরোজোন-ট্রইকার বেইলআউট প্রস্তাব প্রত্যাখান করলো গ্রিক জনতা। আন্তর্জাতিক মিডিয়া বলছে এটা স্পার্টানদের মতোই একটা সাহসী পদক্ষেপ। ভোট পড়েছিলো মোট ভোটারের ৬২.৫% এবং ট্রইকার পক্ষে মতামত দিয়েছিলেন ৩৮.৭% ভোটার। “না” পক্ষের এই বিজয় উপলক্ষে গ্রিস জুড়ে চলছে আনন্দ-উল্লাস।

‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোটের প্রচারণাকারী উভয়পক্ষই বড় ধরনের সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুক্রবার তাদের প্রচারণা শেষ করেছিল যদিও গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস এবং তার সিরিজা পার্টি “না” ভোটের পক্ষে ছিলেন। তবে তার বিরোধীদের আশঙ্কা ঋণদাতাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কারনে দেশটিকে ইউরোজোন থেকে বেরিয়ে যেতে হতে পারে।

আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে গ্রিসের অচলাবস্থা চলছে। ইউরোপীয় ট্রইকা সিস্টেমের ( ইউরোপীয়ান কমিশন, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল) দেনায় ডুবে থাকা গ্রিস ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফের) ঋণের ১৬০ কোটি ইউরোর কিস্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। যে কারণে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রইকার কাছে ঋণ-খেলাপি। অন্যদিকে, গ্রিসের জন্য ইউরোপীয় আর্থিক উদ্ধার প্যাকেজের (বেইলআউট) চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। নতুন করে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে ঋণদাতারা গ্রিসকে কর বাড়ানোর পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ব্যয় কমানোসহ কঠিন আর্থিক পুনর্গঠনের কড়া শর্ত আরোপ করেছে। কিন্তু দেশটির বামপন্থী সরকার ঋণদাতাদের কড়া শর্তে ঋণ নিতে রাজি নয়। এ অবস্থায় ঋণ দাতাদের শর্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গণভোটের আয়োজন করেছিল দেশটি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বছরের পর বছর মজুরি ও পেনশন কমানোয় বিরক্ত অনেক গ্রিক মনে করেন ‘যথেষ্ট হয়েছে, তারা ইউরোজান থেকে বেরিয়ে তাদের আগের নিজস্ব মুদ্রায় ফিরে যেতে চায়।’

গ্রিসের গণভোটের দিকে নজর ছিল সারা বিশ্বের। কারণ এর কম-বেশি প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়বেই। বর্তমানে গ্রিসের ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩২৩ বিলিয়ন ইউরো। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ ঋণ নিয়েছে ইউরোজোনের দেশগুলো থেকে। আইএমএফের ঋণের পরিমাণ ১০ শতাংশ। ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক থেকে নেয়া হয়েছে প্রায় ৬ শতাংশ ঋণ। ১৫ শতাংশ আছে বন্ড। বাকি ৯ শতাংশ গ্রিসের নিজস্ব ব্যাংক, বিদেশি ব্যাংক ও অন্যান্য ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের।

গ্রিসের ‘না’ ভোটের পক্ষেই মত দিয়েছিলেন নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিজত্ এবং পল ক্রুগম্যানের মতো অর্থনীতিবিদরা। তাঁদের আশঙ্কা, আবার ব্যয় কাটছাঁটের শর্তগুলো মানলে গ্রিসের অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। কারণ, বিগত পাঁচ বছরে ব্যয় হ্রাসের পর গ্রিসের মোট অভ্যন্তরীণ উত্পাদন (জিডিপি) প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গেছে। তার থেকে ইউরো ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে নিজের মুদ্রায় ফিরে গেলে গ্রিসের সুবিধা হবে। তবে এক্ষেত্রে মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলে গ্রিসের রফতানি ক্ষেত্রে বিকাশের সম্ভাবনা থাকবে। তাই প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপরে চাপ পড়লেও গ্রিসের দীর্ঘমেয়াদি লাভ হবে।

তবে এই গণভোটের পর ইউরো মুদ্রাব্যবস্থা আদৌ বজায় রাখা সম্ভব কিনা তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও ঋণদাতাদের এখনো আশা শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাবে না গ্রিস।

Leave a Reply