নতুন প্রস্তাবে গ্রিস!

ইউরোপীয়ান কাউন্সিলের প্রধান, পোলিশ রাজনীতিবিদ ডোনাল্ড টাস্ক ইউরোজোনের গ্রিক ঋণ সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে আজ জরুরি সম্মেলন ডেকেছেন। ইউরোজোনের নেতাদের পূর্ণ সম্মেলন শুরুর আগে সেখানকার অর্থমন্ত্রীরা ব্রাসেলসে মঙ্গলবার রাতে তাদের বৈঠক শুরু করবেন। এদিকে গ্রিক প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস সম্মেলনকে সামনে রেখে নতুন প্রস্তাব দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং সূত্রমতে, নতুন পরিকল্পনার মধ্যে গ্রিসের ঋণ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনার প্রস্তাব রয়েছে। যদিও পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সিপ্রাস গ্রিসের ঋণদাতাদের বেশিরভাগ শর্ত মেনে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গত রবিবারে ইউরোজোনের প্রস্তাবিত বেইলআউট দেশটির জনগণ ‘না’ ভোটের মধ্য দিয়ে নাকোচ করে দিয়েছে। একইসাথে, ঋণ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য শিগগিরই এথেন্সকে একটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে বলেছে ইউরোপের শক্তিশালী দেশ ফ্রান্স ও জার্মানি।

গ্রিসের নতুন অর্থমন্ত্রী ইউক্লিড সাকালোতস সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, একটি সমাধান খুঁজে বের করতে আলোচনার জন্য হয়তো এক সপ্তাহ থেকে দশদিন প্রয়োজন হবে। গ্রিসের ব্যাংকগুলো এই সংকট মোকাবেলায় বুধবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

২০১০ সাল থেকে ইউরোপীয় কমিশন, ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক ও আইএমএফের কাছ থেকে দুই দফায় প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ নেয় গ্রিস। তবে ওই টাকার জন্য পেনশন, বেতন ও সরকারি সেবায় কাটছাঁটসহ কঠিন কৃচ্ছ্বতার, ব্যয় সংকোচনের শর্ত মেনে নিতে হয় গ্রিসের জনগণকে।

গ্রিসকে দেয়া ইউরোজোনের চলতি বেইল আউটের মেয়াদ শেষ হয় গত ৩০ জুন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নেওয়া ঋণের ১৬০ কোটি (১ দশমিক ছয় বিলিয়ন) ইউরো পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় একই দিনে খেলাপি হয়ে যায় গ্রিস।

নতুন করে সহায়তার জন্য (বেইল আউট) গ্রিসকে কর বাড়ানোর পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ব্যয় কমানোসহ কঠিন আর্থিক পুনর্গঠনের শর্ত দেয় ইউরোজোন। এসব কঠিন শর্তের বিরোধিতা করে এই সিদ্ধান্তের ভার জনগণের উপর দেয় বামপন্থি সরকার। রবিবার ৬১ শতাংশ ভোটার দাতাদের শর্ত প্রত্যাখ্যান করে ‘না’ ভোট দেয়।

Leave a Reply