পর্যালোচনা: ভারত-নেপাল সম্পর্কে নতুন মোড়

নেপালের উপপ্রধানমন্ত্রী গত বছর ‘ ভারত নেপালকে খণ্ড-বিখণ্ড করতে চায় ‘ বলে অভিযোগ করেছিল।
nepal
নেপালের প্রধানমন্ত্রী খাদগা প্রসাদ শর্মা উলি ভারত সফর করেছে। তার এ সফর ভারত – নেপাল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মতবিরোধ কমিয়ে আনার পথ সুগম করবে বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।

নেপালের ভূমিকম্প-দুর্গত জনগনের পুনর্গঠনের জন্যে ভারত পঁচিশ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা প্রদানের অঙ্গীকার করেছে। এছাড়াও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও নেপালি প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা উলি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সংক্রান্ত সাতটি সমঝোতায় স্বাক্ষর করেছে।

ভারত-নেপাল যোগাযোগের বন্ধ হয়ে থাকা পথগুলো খুলে দেয়ার কারণে ভূমিকম্প-দুর্গত অঞ্চলের লোকদের জন্য সাহায্য পাঠানো সহজ হবে।

প্রসঙ্গত, নেপাল চীনের পাশে ভারতের প্রতিবেশী দেশ , তাই এর ভৌগলিক-রাজনৈতিক অবস্থানের গুরুত্ব রয়েছে । নেপালের উপর প্রভাব খাটাতে বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভারত চীনের থেকে এগিয়ে।তাছাড়া হিন্দু ধর্ম প্রধান হাওয়ায় নেপালের ওপর ভারতের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। নেপালের কংগ্রেস দেশটিতে ভারতপন্থী দল হিসেবে পরিচিত।তবে নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান উলি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর কাঠমান্ডু-দিল্লি সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে ।

ভারত-সীমান্ত সংলগ্ন নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের অধিবাসীরা( নেপালের মাধসি গোত্রের জনগণ ) নেপালে সংবিধান সংশোধনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল আর জনগণের প্রতিবাদকে কাঠমান্ডুর বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে নয়াদিল্লী। প্রতিবাদীরা নেপাল ও ভারতের যোগাযোগের পথগুলো বন্ধ করে দেয়ায় দ্বিপাক্ষিক বিরোধ দিগুন হয়েছিল। নেপালের উপপ্রধানমন্ত্রী গত বছর ‘ ভারত নেপালকে খণ্ড-বিখণ্ড করতে চায় ‘ বলে অভিযোগ করে।

নেপালের নতুন সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ হওয়ায় ভারত সরকার ও নেপালের ভারত সমর্থকদের এই মতবিরোধ হয়েছে বলে মনে করা হয়। আপাতত নেপালের সরকার কিছু সম্পূরক বিধান যুক্ত করে প্রতিবাদীদের ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করেছে এবং আশা করছে ভারত আর তাদের উস্কে দিয়ে হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার করবেনা।









Leave a Reply