ভয়াবহ হুমকির মুখে আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ: প্রতিবেদন

প্রতিবেদনে রাশিয়াকেও আমেরিকার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত নভেম্বরে রাশিয়া উচ্চ প্রযুক্তির এসএ-২১ ‘গ্রোলার’ বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বসিয়েছে সিরিয়ায়। শুধু সিরিয়া নয় বরং পূর্ব ভূমধ্যসাগরের বেশিরভাগ এলাকায় এ দিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে হামলা চালাতে পারবে রাশিয়া।

uss_truman_and_usns_spica
সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির ‘দ্যা রেড অ্যালার্ট: গ্রোয়িং থ্রেট টু ইউ.এস. এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার্স’ নামের সমীক্ষা-প্রতিবেদন অনুযায়ী আমেরিকার বিমানবাহী রণতরীর বহর দেশটির প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্ব হারাতে বসেছে এবং এ বহর হামলার প্রচণ্ড হুমকির মুখে রয়েছে। নতুন প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতিতে চীন ও রাশিয়াসহ অনেক দেশ সহজেই এসব রণতরীর ওপর হামলা চালাতে পারবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকা এখনো রণতরী ব্যবহারের মতো মান্ধাতার আমলের কৌশলে আটকে আছে। অথচ প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়নে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে এককালে দুর্জেয় হিসেবে বিবেচিত আমেরিকার রণতরীর বিরুদ্ধে এখন সহজেই হামলা চালানো হতে পারে। প্রযুক্তির উন্নয়নে এ ক্ষেত্রে আমেরিকার বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজের জন্য ‘দ্রুত অগ্রসরমান হুমকি’ হয়ে দেখা দিয়েছে চীন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরিয়েল ডিনায়াল প্রযুক্তি আমেরিকার নৌবাহিনীর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে । এ পদ্ধতিতে যুদ্ধ এলাকায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। ফলে কার্যকরভাবে লড়াইয়ের জন্য আমেরিকার বিমানবাহী জাহাজগুলো যুদ্ধ এলাকার কাছে ঘেঁষতে পারবে না। অথবা পারলেও এ জন্য দিতে হবে চড়ামূল্য। এ কাজ করতে গিয়ে বিমানবাহী রণতরী ও তার বিমানগুলো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এমনকি ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।

এরিয়া ডিনায়ালের জন্য নতুন বিমান, ড্রোন প্রযুক্তি, সাবমেরিন এবং এমনকি বিমানবাহী রণতরী বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হতে পারে। গত মাসে ইরানের ড্রোন নির্বিঘ্নে আমেরিকার বিমানবাহী জাহাজ হ্যারি এস ট্রুম্যানের ওপর দিয়ে উড়ে ছবি ও ভিডিও তুলে এনেছিল।

এছাড়াও চীন প্রযুক্তিগত উন্নতির গতিও আমেরিকা নৌবহরের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। দেশটির হাতে বর্তমানে বিমানবাহী রণতরী বিধ্বংসী দু’রকমের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এগুলো হলো ডিএফ২১ডি এবং ডিএফ-২৬। এসব ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চীনের উপকূল থেকে গুয়াম দ্বীপের উপকূল থেকে ২০০০ মাইল দুরে অবস্থিত আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা সম্ভব হবে।
প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরের কৃত্রিম দ্বীপে এইচকিউ-৯ বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বসিয়েছে বেইজিং। ফলে এটি আমেরিকার বিমানবাহী জাহাজের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। তুলনামূলকভাবে তাদেরকে এখন অনেক কাছাকাছি থেকে রণক্ষেত্র মোকাবেলা করতে হতে পারে। এক্ষেত্রে, আমেরিকার যুদ্ধজাহাজগুলোকে দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র দিয়ে হামলার বদলে এখন স্বল্পপাল্লার অস্ত্রের ঘন ঘন হামলার মুখে পড়তে হতে পারে।

প্রতিবেদনে রাশিয়াকেও আমেরিকার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত নভেম্বরে রাশিয়া উচ্চ প্রযুক্তির এসএ-২১ ‘গ্রোলার’ বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বসিয়েছে সিরিয়ায়। শুধু সিরিয়া নয় বরং পূর্ব ভূমধ্যসাগরের বেশিরভাগ এলাকায় এ দিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে হামলা চালাতে পারবে রাশিয়া।









Leave a Reply