মধ্যএশিয়ায় বাড়ছে ইসলামিক স্টেইটের কর্মকান্ড

গত কয়েক মাসে মধ্যএশিয়ার দেশগুলো বিশেষ করে কাজাখস্থান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান, আজারবাইজান ও এমনকি জর্জিয়ার কর্মকর্তারা ইসলামিক স্টেইটের তৎপরতার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
is
সিরিয়াসহ আরো বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ব্যর্থ হওয়ার পর ইসলামিক স্টেইট এখন ককেশিয় ও মধ্যএশিয়ার দেশগুলোর দিকে নজর দিয়েছে। এ অঞ্চলে ইসলামিক স্টেইটের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এ কারণে গত কয়েক মাসে মধ্যএশিয়ার দেশগুলো বিশেষ করে কাজাখস্থান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান, আজারবাইজান ও এমনকি জর্জিয়ার কর্মকর্তারাও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তাজিকিস্তানের কর্মকর্তারা আশঙ্কার করেছে যে সেদেশের এক হাজারের বেশি নাগরিক ইসলামিক স্টেইটে যোগ দিয়েছে। তাজিকিস্তানের অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ রহমান দোশাম্বে থেকে প্রকাশিত দৈনিক জমহুরিয়াতকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছে, সৌদিপন্থী ওহাবি ও সালাফি গোষ্ঠী সেদেশে উগ্রবাদ ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেইটের পক্ষে যেসব দেশের নাগরিকরা যুদ্ধ করছে তার মধ্যে তাজিকিস্তানের নাগরিকরাও রয়েছে।

তাজিকিস্তানের রাজধানী দোশাম্বের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ আব্দুল্লাউফ সেদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। সে সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের জন্য রাজধানীর সব মসজিদে ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে।

গত কয়েক বছর আগে রাজধানী দোশাম্বের বিভিন্ন মসজিদে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা প্রথমে মুসল্লিদের দেহ তল্লাশি করে মসজিদে প্রবেশ করাচ্ছে। তবে সম্প্রতি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য-সংখ্যা আরো বাড়ানো হয়েছে। বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে দায়িত্বরত পুলিশ ১৮ বছরের নীচের যুবকদেরকে মসজিদে প্রবেশ করতে দেয় না।

তাজিকিস্তানের অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছে, ওহাবি সালাফিরাই তাজিকিস্তানের জনগণকে উগ্রতার দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করছে এবং আমাদেরকে অবশ্যই এটা প্রতিহত করতে হবে।

এদিকে, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমাম আলী রাহমনও সম্প্রতি সেদেশে উগ্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে। সে সাগাদ প্রদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ওই প্রদেশে উগ্র গোষ্ঠীর প্রতি যুবকদের ঝুঁকে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, ওহাবি সালাফিদের তৎপরতা রোধের প্রচেষ্টাকে পর্যাপ্ত নয়।

তবে অনেক বিশ্লেষকদের ধারণা , সৌদিপন্থী উগ্র ওহাবি সালাফিদের হাতিয়ার হিসেবে কিছু লোক ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ওহাবিরা ককেশিয় ও মধ্যএশিয়ার দেশগুলোতে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করছে-এ বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পরও তাজিকিস্তানসহ এসব দেশের সরকার এখন পর্যন্ত ওহাবিদের তৎপরতা রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এবং এতদিন পর্যন্ত তারা উদাসীন থেকেছে।









Leave a Reply