যোসেফ স্ট্যালিনের নাতনির যতকান্ড

সম্প্রতি স্ট্যালিনের নাতনি ক্রিস ইভান্স উদ্ভট ধরনের কিছু ছবি প্রকাশের মাধ্যমে ইন্টারনেটে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ছবিগুলোতে ৪৪ বছর বয়েসী ক্রিস ইভান্স এমন কিছু খামখেয়ালী পূর্ণ সাজপোশাকে সেজেছে যা আলোচিত হবার মতই । দেখা যাচ্ছে ইভান যতসামান্য টপস আর শর্টস পরে হাতে খেলনা রাইফেল নিয়ে উদ্ভট ভঙ্গিতে দাড়িয়ে পোস দিয়েছে। কিছু ছবিতে চুলের খানিকটা আছে আবার খানিকটা নেই। চোখে ,মুখে সর্বত্র উল্কি আঁকা ছবিও পোস্ট করেছে যেখানে কিম্ভুতকিমাকার মেকাপে তাকে ব্যঙ্গপূর্ণ মনে হয়।

stalin

ক্রিস ইভান্স জোসেফ স্ট্যালিনের একমাত্র মেয়ে স্ভেতলানা আলিলুয়েভার তৃতীয় বিবাহ সুত্রে কন্যা। স্ভেতলানার তিন সন্তানের মধ্যে ইভান সর্ব কনিষ্ঠ। ইভান পোর্টল্যান্ড এর অরেগনে থাকে ,যেখানে তার একটি এন্টিক শপ রয়েছে । নানা জোসেফ স্ট্যালিন যে ছিল প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘নির্মম লৌহ মানব’ তার থেকে মুক্ত হয়ে বৌদ্ধ ধর্ম অবলম্বন করেছে। নিজেকে একজন বুদ্ধিষ্ট হিসেবে ভাবতেই সাচ্ছন্দবোধ করে ইভান ।

ইউকে এক্সপ্রেস কে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে ইভান ক্রিস বলেছে –

‘ যাদের আমি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হোতা মনে করি তারা হলো – রুজভেল্ট ,চার্চিল এবং জোসেফ স্ট্যালিন। আমি তার অপরাধের ইতিহাস আমার মায়ের কাছে শুনেছি। ১৯২৯ – ১৯৫৩ অর্থাৎ স্ট্যালিনের শাসনামলে সোভিয়েত ইউনিয়নকে মিলিটারী পরাশক্তিতে পরিনত করেছিল এই নির্মম শাসক। আমি তাকে ঘৃনা করি’।

মা স্ভেতলানা ১৯৬৬ সালের দিকে সোভিয়েত থেকে বিতারিত হয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজে ভারতে আমেরিকান দুতাবাসে আসে ,যেখানে পরিচয় হয় আমেরিকান নাগরিক ইভানের বাবার সাথে। নিজের নাম লানা পিটারসে পরিবর্তন করে ১৯৭০ এ বিয়ে করে প্রকৌশলী উইলিয়াম ওয়েস্লে পিটার্সকে ,যেখানে ইভান এর জন্ম হয়।

স্ট্যালিনের নাতনি ক্রিস ইভান্স
স্ট্যালিনের নাতনি ক্রিস ইভান্স

১৯৮৪ সালের দিকে স্ট্যালিনের মেয়ে স্ভেতলানা স্বদেশের প্রতি তীব্র টান অনুভব করে এবং ২ বছরের জন্যে চলে যায়। কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য মতে , ক্রিস তার মায়ের সোভিয়েতে পালিয়ে যাওয়াকে মেনে নিতে পারেনি এবং স্ভেতলানার সাথে যাবতীয় যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এমনকি স্ভেতলানা পুনরায় আমেরিকা ফিরে আসার পরও তাদের মা মেয়ের সম্পর্কে কোনো উন্নতি ঘটেনি।

উল্লেখ্য,স্ভেতলানা আলিলুয়েভা পাঁচ বছর আগে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে । ২০১১ সালে আমেরিকায় তার শবদাহ করা হয়।

প্রতিবেদন: মেহেরুন নাহার রিমি









Leave a Reply