সিরিয়ার সন্ত্রাসীদের রক্ষা করতে চাইছে তুরস্ক-সৌদি-কাতার-আমেরিকা জোট

রাশিয়া-সিরিয়ার এই যৌথ সাফল্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ও তাদের মদদদাতারা সব কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। সেকারনে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো আলেপ্পোয় সিরিয়ার সামরিক বাহিনী কতৃক ঘেরাও হয়ে পড়ায় জেনেভার শান্তি আলোচনাকে অচল করে দিয়েছে তুরস্ক ও সৌদি সরকার।
article-sayyaf2-0516

আমেরিকার মদদে তুরস্ক, সৌদি ও কাতার সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেইটকে মোকাবেলা করার অজুহাতে স্থলসেনা পাঠাতে চাইছে। এই দেশগুলো এমন সময় এই উত্তেজনা পরিস্থিতির সৃষ্টি করলো যখন, সিরিয়া একটা অস্ত্র বিরতির ব্যাপারে সমঝোতা হতে চলছিল।

এই সিরিয়ার সংকট সমাধানের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রুপের প্রতিনিধিরা অবরুদ্ধ অঞ্চলের জনগণের কাছে ত্রাণ-সাহায্য পাঠানো জন্যে সিরিয়ায় যুদ্ধ-বিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছিল। মিউনিখে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে রাশিয়া, ইরান, আমেরিকার, তুরস্ক ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিল।

যেহেতু, সিরিয়া বিষয়ক আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রুপের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস রয়েছে তাই একটি লিখিত সমঝোতায় উপনীত হওয়া এই দেশগুলোর জন্য সহজ নয়। প্রস্তাবিত যুদ্ধ-বিরতির আওতায় ইসলামিক স্টেইট ও জাবাথ আল নুসরা না থাকা সত্ত্বেও একটি বাস্তব যুদ্ধ-বিরতি প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধ অবসানের পথে এখনও অনেক বাধা রয়ে গেছে। তবে মিউনিখ-সমঝোতার পথে বড় বাধাটি হল সন্ত্রাসবাদ এবং সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে বিভিন্ন মহলের নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও অবস্থান।

সিরিয়ার আসাদ বিরোধীরা বলছে, রাশিয়া ইসলামিক স্টেইটের উপর বোমা হামলা না চালিয়ে, ‘মডারেট ইসলামিস্ট’দের অবস্থানের ওপর বোমা হামলা চালাচ্ছে। তবে উত্তর ও পশ্চিম সিরিয়ায় সক্রিয় এই কথিত মধ্যপন্থী বা মডারেট সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দিচ্ছে সৌদি, তুরস্ক, কাতার ও ‌আমেরিকা।

রাশিয়া-সিরিয়ার এই যৌথ সাফল্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ও তাদের মদদদাতারা সব কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। সেকারনে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো আলেপ্পোয় সিরিয়ার সামরিক বাহিনী কতৃক ঘেরাও হয়ে পড়ায় জেনেভার শান্তি আলোচনাকে অচল করে দিয়েছে তুরস্ক ও সৌদি সরকার।

সিরিয়ার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য তুরস্ক ও সৌদি আরবের কর্মকান্ড দেখে মনে করা হচ্ছে খুব শিগগিরই ইসরাইল এবং আমেরিকার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এ দুইদেশ সিরিয়ায় স্থল সেনা পাঠাতে পারে। তুরস্ক ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বার বার এই সম্ভাবনার কথাই জোরেশোরে বলছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব তুরস্কের খুব ঘনিষ্ঠ হওয়ায় রিয়াদ সৌদি জঙ্গি বিমানগুলোকে তুরস্কের ইনসারলিক বিমান ঘাঁটিতে পাঠাচ্ছে যাতে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেইটের অবস্থানগুলোর ওপর হামলা করা যায়।

গত কয়েকদিন যাবত তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনী উত্তর সিরিয়ায় কুর্দি সেনা অবস্থানের ওপর কামানের গোলা বর্ষণ শুরু করেছে। কুর্দি সেনারা উত্তর সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেইটের মোকাবেলার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে এবং তারাই কুবানি শহর থেকে তাকফিরি-ওয়াহাবি এই গোষ্ঠীকে বিতাড়িত করেছিল।

ইসলামিক স্টেইটের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নামে সিরিয়ার কুর্দিদের ওপর হামলা চালানোকে মূলত ইসলামিক স্টেইটের প্রতি সহায়তা প্রদান বলে অনেকে ধারনা করছে। তুরস্কের ডেমোক্রেটিক পিপলস পার্টির নেতা সালাহউদ্দিন দিমিরতাস জানিয়েছে তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরব সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপগুলোকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে অনিবার্য পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী ইসরাইলি দখলদারিত্বের কঠোর বিরোধী আসাদ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তুরস্ক, কাতার ও সৌদি ‌আরব গত কয়েক বছর ধরেই বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অস্ত্র, অর্থ, প্রশিক্ষণ এবং সীমান্ত ব্যবহার করতে দেয়াসহ সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে এসেছে। এছাড়াও ইসলামিক স্টেইটের চুরি করা তেল তুরস্কের মাধ্যমেই নানা দেশে বিক্রি করা হয়েছে।

সুতরা সৌদিআরব, তুরস্ক এবং দোহা যতই মানবীয় বিপর্যয় থেকে সিরিয়ার জনগণকে উদ্ধারের দোহাই দিক না কেন, তাদের মূল উদ্দেশ্য এখন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে রক্ষা করে সিরিয়ায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া।









Leave a Reply