সিরিয়ায় স্থলসেনা পাঠাতে তুরস্ক-সৌদির মধ্যপ্রাচ্য জোট পশ্চিমের উপর নির্ভরশীল

তুরস্কের রাজধানীতে ভয়াবহ বোমা হামলা, সৌদি আরবে সন্ত্রাসী হামলা এবং এসংক্রান্ত প্রচার, আমেরিকার নেতৃত্বাধীন পশ্চিমের কাছে সিরিয়ার সেনা পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার প্রয়াস বলে অনেক বিশ্লেষকের ধারণা। অর্থ্যাত একমাত্র পশ্চিমের সিগনাল পেলেই সিরিয়ায় সেনা পাঠাবে তুরস্ক-সৌদি জোট।
1412609366664_wps_10_SANLIURFA_TURKEY_OCTOBER_

সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এর্দোগান সম্মতি প্রকাশ করছে যে, সিরিয়া বাশার আল আসাদকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখে সিরিয়ার সংকট সমাধানের কোনো পথ খোলা রাখা যাবে না। এছাড়া সিরিয়ার অভ্যন্তরে বিশেষ করে উত্তর আলেপ্পোয় রাশিয়া ও সিরিয়া সেনাবাহিনীর আক্রমনকে উদ্বেগজনক বলেও তারা মন্তব্য করেছে।

ইসলামিক স্টেইটকে দমনের অজুহাতে সিরিয়ায় স্থল সেনা পাঠাতে চায় রিয়াদ ও আংকারা এমন আশঙ্কা জোরদারের প্রেক্ষাপটে এধরনের মন্তব্য করল সৌদিআরব ও তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধানরা। যদিও তুরস্ক ও সৌদিআরব সিরিয়া এবং ইরাকের ইসলামিক স্টেইট সহ অন্যান্য সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলোক সম্পূর্ণ সহায়তা করে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার বিমান হামলা এবং সিরিয়া সেনাবাহিনীর অভিযানে তুরস্ক ও সৌদির মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখোমুখি পড়েছে।

আলেপ্পোয় রাশিয়ার বিমান বাহিনী, সিরিয়ার সরকারি সেনাবাহিনী ও কুর্দি সেনাদের অগ্রাভিযান সিরিয়া-ইরাকের মদদদাতা পশ্চিমার নেতৃত্বে সৌদি-তুরস্কের আঞ্চলিক জোটকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে । কারণ, সিরিয়াকে নিয়ে সৌদি-তুরস্ককে সাথে নিয়ে পশ্চিমাদের যে ভূ-রাজনৈতিক পরিকল্পনা ছিল তা নষ্ট হতে চলেছে। সন্ত্রাসীদের চুড়ান্ত পরাজয় হলে এ অঞ্চলে তারা তাদের নিয়ন্ত্রন হারাবে।

পশ্চিমাদের সহায়তায় মধ্যপ্রাচ্যের সিরিয়ার সরকার-বিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো তুরস্কের ভেতরে প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও অর্থ এবং গোয়েন্দা সহযোগিতাসহ সব ধরনের সাহায্য পেয়ে এসেছে। তবে যখন এই সন্ত্রাসীদের পরাজয় প্রায় অনিবার্য বা অত্যাসন্ন হয়ে উঠছে তখন ইসলামিক স্টেইটের প্রধান মদদদাতারা সন্ত্রাসীদের দমনের অজুহাতে সিরিয়ায় সেনা পাঠাতে চাচ্ছে।

এক্ষেত্রে এই পশ্চিম নেতৃতাধীন সৌদি-তুরস্ক জোট সিরিয়ায় সেনা পাঠিয়ে সন্ত্রাসীদের আসন্ন পরাজয় ঠেকাতে চায় যাতে পরবর্তীতে বাশার আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে নিজেদের অনুগত শাসক বসানো যায়।

তুরস্ক, সৌদি ও কাতারি সরকারের পক্ষ থেকে সিরিয়ায় সেনা পাঠানোর বিষয়টি যে আগুন নিয়ে খেলার মতই বিপজ্জনক হবে তা এই সরকারগুলোও হয়তো বুঝতে পারছে সেকারনে পরিবেশ ও প্রেক্ষাপটকে আরও কিছুটা অনুকূলে দেখার জন্য অপেক্ষা করছে তারা। পশ্চিমারা প্রথমে ইসলামিক স্টেইটের বিরুদ্ধে স্থলসেনা পাঠানোর জোট করলে সেই জোটের ছায়াতলে দু-একটি দেশ আগে-ভাগে সিরিয়ায় সেনা পাঠানোর উদ্যোগ নিলে তুরস্ক ও সৌদি আরবের জন্য সেনা পাঠানোর পথটা যাতে সহজ হয়।

বিশ্লেষকরা ধারণা করছে, সিরিয়ায় সেনা পাঠানোর মত ভয়াবহ, জটিল ও চূড়ান্ত পরিণতির কথা ভেবে আসাদ-বিরোধী শক্তিগুলো তীব্র আতঙ্ক অনুভব করছে বলে এখনও তারা চূড়ান্ত যুদ্ধ জড়াতে সময় নিচ্ছে।

অনেক বিশ্লেষক মনে করছে, সিরিয়ায় আসাদ বিরোধী সরকারগুলোর পক্ষ থেকে স্থল-সেনা পাঠানো হলে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হতে পারে যা পরবর্তীতে বিশ্বযুদ্ধের আকার নেবে। অপরদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এরই প্রেক্ষাপটে এটা স্বীকার করেছে যে সিরিয়ায় স্থল-সেনা পাঠানোর ব্যাপারে পশ্চিমা জোটের মধ্যে এখনও ঐক্যমত্য গড়ে ওঠেনি এবং এমন উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে জোরালো আলোচনাও করছে না জোটের শরিক দেশগুলো।

সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত যুদ্ধ-বিরতি নিয়ে আলোচনার উদ্দ্যেশে দামেস্ক সফর করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক যুদ্ধ রোধ করতে আন্তর্জাতিক সমাজ ও বিশ্ব-জনমতের সমর্থন রয়েছে। একারনে পশ্চিমা সৈন্য ছাড়া সিরিয়ায় সেনা পাঠানোর মত বিপজ্জনক পদক্ষেপে তুরস্ক ও সৌদি সরকার জড়িয়ে পড়তে চাচ্ছে না। অন্যথায়, সিরিয়ায় তাদের সৃষ্ট চোরাবালিতে তাদের আরও বেশি ডুবে যেতে হবে।

যদিও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চাবুশ উগলু স্পষ্ট করেই বলছে যে, শুধু তুরস্ক, সৌদি ও কাতারি সরকারের পক্ষ থেকে সিরিয়ায় স্থল-সেনা পাঠানোর আশা করাটা সঠিক ও বাস্তবধর্মী চিন্তা নয়। এ থেকেও বোঝা যায় তুরস্ক ও সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে সিরিয়ায় সেনা পাঠানোর প্রস্তাবটি মূলত: আমেরিকার নেতৃত্বাধীন পশ্চিমের প্রতি খোলা চিঠি।

তবে তুরস্কের রাজধানীতে ভয়াবহ বোমা হামলা, সৌদি আরবে সন্ত্রাসী হামলা এবং এসংক্রান্ত প্রচার, আমেরিকার নেতৃত্বাধীন পশ্চিমের কাছে সিরিয়ার সেনা পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার প্রয়াস বলে অনেক বিশ্লেষকের ধারণা। অর্থ্যাত একমাত্র পশ্চিমের সিগনাল পেলেই সিরিয়ায় স্থলসেনা পাঠাবে তুরস্ক-সৌদি জোট।









Leave a Reply