সিরিয়া থেকে রাশিয়ার অস্ত্রসস্ত্র সরানোর নির্দেশ দিয়েছে পুতিন

পুতিন বলেছে, সিরিয়ার চলমান শান্তি প্রক্রিয়া জোরদার করার জন্য সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। সে আশা প্রকাশ করে বলেছে, রাশিয়ার সেনা সরিয়ে নেয়ার এ পদেক্ষপ সিরিয়ায় পাঁচ বছরের সহিংসতার অবসানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

putin-1_DROS

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় জানিয়েছে সিরিয়া থেকে অস্ত্র এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেয়া হচ্ছে, সামরিক লোকজন ও সরঞ্জাম রাশিয়ার বিমানঘাঁটিতে পাঠানোর জন্য দূরপাল্লার বিমানে ভর্তি করা হচ্ছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে আরো জানানো হয়েছে, লাতাকিয়া হেমেইমিম বিমানঘাঁটি থেকে দূর পাল্লার বিমানে করে সামরিক সরঞ্জাম নেয়া হবে। এর একদিন আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সিরিয়ার বিমানঘাঁটি থেকে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

পুতিন বলেছে, সিরিয়ার চলমান শান্তি প্রক্রিয়া জোরদার করার জন্য সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। সে আশা প্রকাশ করে বলেছে, রাশিয়ার সেনা সরিয়ে নেয়ার এ পদেক্ষপ সিরিয়ায় পাঁচ বছরের সহিংসতার অবসানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সিরিয়ার সরকার ও কথিত বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে জেনেভায় শান্তি আলোচনা শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট পুতিন সেনা সারানোর নির্দেশ দেয়।

এছাড়াও প্রেসিডেন্ট পুতিন সিরিয়ায় রাশিয়ার বিমান হামলার প্রশংসা করে বলেছে, এ অভিযান ছিল সিরিয়ার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ এবং এ কারণেই আজ শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুতিন আরো জানিয়েছে, সিরিয়ায় হেমেইমিম বিমানঘাঁটি ও রাশিয়ার নৌঘাঁটির স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের এ ঘোষণার পর তার আবাসিক দপ্তর ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে যে, সিরিয়া থেকে রাশিয়ার সেনা সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট পুতিন টেলিফোনে কথা বলেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক উপায়ে সিরিয়া সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। সেইসঙ্গে তারা জাতিসংঘের উদ্যোগে জেনেভায় সিরিয়া বিষয়ক চলমান আলোচনার প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে।

অপরদিকে রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই ইভানভ জানিয়েছে সিরিয়ায় রাশিয়ার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে তা সরিয়ে নেয়া হবে না। ইভানভ বলেছেন, সিরিয়ার আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাশিয়ার সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন থাকবে।

এছাড়াও রাশিয়ার উপ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু বলেছে, সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার বিমান হামলাও অব্যাহত থাকবে।

প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দামেস্ক ও মস্কোর মধ্যে পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমে সিরিয়া থেকে রাশিয়ার সেনা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া, বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন গভীর পর্যবেক্ষণ ও ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তবে সিরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসলামিক স্টেইট এবং আন-নুসরা ফ্রন্টসহ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।









Leave a Reply